নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে হাঁটতে হাঁটতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন- যেখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপন মানুষের জীবন নাটকীয়ভাবে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন তো চলতেই পারে। আপনি যত দীর্ঘদিন বাঁচবেন, ততই তরুণ হয়ে উঠবেন, এমনকি অমরত্বও অর্জন করতে পারেন," পুতিনের দোভাষীকে বলতে শোনা যায়।
কেউ কেউ অনুমান করেন, এই শতাব্দীতেই মানুষ ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে," শি'র দোভাষীর জবাব।
এই খোলা মাইক্রোফোনের মুহূর্তটি তাদের সম্পর্কের একটি ঝলক দেখায়।
এটি ছিল দুই শক্তিমান নেতার জন্য আলাপচালিতা যারা একে অপরকে 'সেরা বন্ধু' বলে বর্ণনা করেছেন এবং যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
তাদের সম্পর্কটি যে ঠিকমতো উপলব্ধি করা হয়নি- এমন বাস্তবতা, আর তাদের অত্যন্ত গোপন সম্পর্কের অল্প কিছু ঝলকের এক বিরল নমুনা ছিল অনির্ধারিত এই কথোপকথনটি।
এই সপ্তাহে পুতিন আবার বেইজিংয়ে ফিরছেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে 'প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা' চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে হবে তার এই সফর।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি'র সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তার তুলনায় পুতিনের সফর অনেকটাই নিভৃত এবং এ নিয়ে আগাম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে খুব কমই।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্প-শি বৈঠক সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাবেন বলে আশা করছেন।
খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে জংনানহাই লিডারশিড কম্পাউন্ডে (যেখানে শি এবং চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস করেন ও সেখান থেকে কাজকর্ম পরিচালনা করেন) হাঁটার সময় ট্রাম্পের একটি প্রশ্নের উত্তরে শি তার বন্ধু পুতিনের কথা উল্লেখ করেন এবং মজা করে বলেন, পুতিন আগেই এই রাজনৈতিক কেন্দ্রে এসেছেন, যা সাধারণত বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
ওয়াশিংটনের কেউ কেউ যদিও আশা করেছিলেন যে ট্রাম্প বেইজিংকে মস্কো থেকে দূরে সরিয়ে আনতে পারেন, কিন্তু সে আশা এখন কল্পনাপ্রসূত বলেই মনে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া তাদের সম্পর্ককে "সীমাহীন বন্ধুত্ব" বলে বর্ণনা করেছে। তবে এর ভিত্তি কী এবং এই সম্পর্ক কতদিন টিকবে?
সূত্র: বিবিসি বাংলা